Home / বাংলা হেল্‌থ / সকালে খালি পেটে কাঠ বাদাম খাওয়ার উপকারিতা
badam.jpg

সকালে খালি পেটে কাঠ বাদাম খাওয়ার উপকারিতা

আমরা সবাই জানি কাঠবাদাম একটি খুবই জনপ্রিয় বাদাম। আমরা সকলেই এই বাদামের সাথে কোন না কোন ভাবে পরিচিত। কাঠবাদাম অনেক মানুষই পছন্দ করে থাকেন। একবার মানুষের শরীরের ওজন কমাতে খুবই সাহায্য করে। কাঠবাদাম পুষ্টিগুণে ভরপুর, কাঠবাদামে নানা ধরনের ভিটামিন ও খনিজ পদার্থ রয়েছে। আর বাদাম শরীরের ফোলা ভাব কমায় এবং যৌবন ধরে রাখতে ও বিশেষ ভাবে সাহায্য করে। কাঠবাদাম পায়েস এবং ক্ষীরেরউপর গার্নিশ করে খাওয়া হয়।

চিকিৎসকরা বলেন কাঠ বাদাম কে এক বাটি পানিতে ক ভিজিয়ে রাখলে সহজে খোসা ছাড়ানো যায়। খোসা ছাড়ানোর পর সাদা বাদাম টিএক সপ্তাহ ধরে রেখে খাওয়া যায় । কাঠ বাদামে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন E রয়েছে। অনেকে আবার কাঠ বাদামের তেল ব্যবহার করে থাকেন। কাঠ বাদামের তেল ত্বকের জন্য খুবই উপকারী।

কাঠ বাদামের দামঃ কাঠবাদামের দাম কিন্তু তেমন একটা বেশি না ১কেজি কাঠবাদামের দাম প্রায় ৭০০-৮০০ টাকা। যদিও এই দাম আপনাদের কাছে অনেক বেশি মনে হতে পারে।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতেঃ
কাঠবাদাম হচ্ছে অ্যালকেলাইন সমৃদ্ধ একটি খাবার। এটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতেও অনেকখানি সাহায্য করে থাকে। এর মধ্যে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন-ই; আরও রয়েছে অনেক শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এগুলো বিভিন্ন ধরনের রোগের হাত থেকে আমাদের দেহকে সুরক্ষা দিয়ে থাকে । যেমনঃ ক্যানসার এবং ফুসফুসের রোগ ইত্যাদি থেকেও আমাদের সুরক্ষা দিয়ে থাকে।

ত্বকের যত্নে কাঠবাদামের কার্যকারিতাঃ
চর্ম বিশেষজ্ঞরা ত্বকের যত্নে আমন্ড অয়েলের ব্যবহারের জন্য ও পরামর্শ দিয়ে থাকেন। সাধারণভাবে কাঠবাদাম খাওয়ার ফলে ত্বকের অনেকটা উপকার হয় একদম গভীর থেকেই। ফলে অল্প বয়সে চেহারায় বলীরেখা দেখা দেয় না এবং ত্বকের উজ্জ্বলতা প্রাকৃতিকভাবে আরও বৃদ্ধি পায় । প্রতিদিন কাঠবাদাম খেলে অথবা মুখে লাগালে ত্বক থাকে চির নতুন হয়ে ওঠে । সেই সঙ্গে পানিতে ভেজানো কাঠবাদাম বেঁটে যদি মুখেও মেখে নেওয়া যায়, তাহলে তা অনেকটা প্রাকৃতিক ক্রিমের মতো কাজ করে থাকে। এছাড়াও, আপনার ত্বক যদি শুষ্ক হয় যায় , সেই সমস্যা দূর করতেও কাঠবাদাম অনেকটা সাহায্য করে । এক্ষেত্রে কিছুটা ফোটানো ক্রিমও, বেঁটে রাখা কাঠবাদামের সঙ্গে মিশিয়েও মেখে নিতে পারেন।

প্রদাহ কমানোঃ
বিশেষ কিছু ফ্যাটি অ্যাসিড শরীরের জন্য খুবই উপকারী এবং প্রয়োজনীয়। যেহেতু শরীর কোনও ফ্যাটি অ্যাসিড তৈরি করতে পারে না, বিভিন্ন ধরনের প্রাকৃতিক খাদ্য উপাদান থেকেই তাকে ফ্যাটি অ্যাসিড সংগ্রহ করতে হয়। কাঠবাদামের মধ্যে থাকে দুইটি খুব গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাটি অ্যাসিড- লিনোলিয়েক “Linoleic “ও লিনোলিয়েক অ্যাসিড। এই ফ্যাটি অ্যাসিড সমূহ শরীরের ভিবিন্ন প্রদাহ কমাতেও অনেক কাজ করে।

ক্যান্সারের বিরুদ্ধে প্রতিরোধক্ষমতা সৃষ্টি করেঃ
পানিতে ভেজানো কাঠবাদামের মধ্যে ভিটামিন বি ১৭ থাকে যা ক্যান্সারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে অনেক ভূমিকা পালন করে । ক্যান্সার রোগীরাও প্রতিদিন নিয়ম করে কাঠবাদাম খেতে পারেন। কাঠবাদাম কোলোন ক্যানসারও প্রতিরোধে করতে অনেকটা সাহায্য করে থাকে। এটি কোলনকে ভালো রাখতে অনেক সফলভাবে কাজ করে।

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণেঃ
প্রতেকবার খাবার খাওয়ার পর রক্তে গ্লুকোজ ও ইনসুলিনের মাত্রা অনেকটাই বেড়ে যাওয়া প্রতিরোধ করে থাকে কাঠবাদাম। যার ফলে অতিরিক্ত চিনিযুক্ত কোন খাবার খাওয়ার পর পর কাঠবাদাম খেলে রক্তের মধ্যে চিনির প্রভাবও কম দেখা দেয় । এই কাঠবাদাম গ্লুকোজের প্রক্রিয়া ও শোষণকে অনেকটাই নিয়ন্ত্রিত করে থাকে ।

উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণেঃ
আপনার কি কোন ধরনের উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা আছে? তাহলে অবশ্যই আপনি কাঠবাদাম খান। এর কারণ হচ্ছে, কাঠবাদামের মধ্যে খুবই কম পরিমাণে সোডিয়াম থাকে এবং অতি মাত্রায় পটাশিয়াম থাকে , যা উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা নিবারণেও অনেকটা সাহায্য করে থাকে । এছাড়াও, কাঠবাদামের ভেতরে উপস্থিত থাকা ম্যাগনেসিয়াম এবং ফলিক অ্যাসিড রক্ত জমাট বাধার সম্ভাবনাকে ও দূর করে দেয়।

হাড ও দাঁত ভালো রাখতে কাঠ বাদামঃ
কাঠবাদামের মধ্যে থাকা ফসফরাস, মিনারেল ও ভিটামিন হাড় ও দাঁতকে অনেক সুরক্ষা দেয়। ফসফরসার কেবল মাএ হাড়কে বা দাঁতকে মজবুত করে না, এটি অস্টিওপরোসিস বা হাড় ক্ষয় রোগ প্রতিরোধ করতে অনেক সাহায্য করে । হাড় এবং দাঁতের সুসাস্থ্য ও স্থায়িত্বের ওপর ফসফরাসের বিস্তার প্রভাবও রয়েছে অনেকখানি। বয়সজনিত হাড় ও দাঁতের সমস্যা তৈরি হওয়ার হাত থেকে রক্ষা করতেও ফসফরাস অনেকটাই কার্যকরি ভূমিকা পালন করে ।

ব্রেইনের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধিতেঃ
কাঠবাদামের মধ্যে থাকা পুষ্টিগুণ মস্তিষ্ককে ভালো রাখতে অনেকভাবে সাহায্য করে। এই বাদামে থাকে ব্রেইনের জন্য অতি প্রয়োজনীয় দুইটি পুষ্টিগুণ উপাদান- রিবোফ্লাভিন ও এল-ক্যারনিটিন। এই দুইটি উপাদান মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। এটি স্মৃতিভ্রম রোগ প্রতিরোধেও অনেকটা সাহায্য করে থাকে। প্রতিদিন সকালে ( ৪-৬) টি কাঠবাদাম ভিজিয়ে খেলে মস্তিষ্কের কাজের ক্ষমতার উন্নতি ঘটে। এটি শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় উপকারি ফ্যাটের উৎস হিসাবে কাঠবাদাম বিশেষভাবে ভূমিকা পালন করে । বাড়ন্ত শিশুদের মেধা বিকাশের জন্য কাঠবাদাম অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি পুষ্টিকর খাবার। এছাড়াও বৃদ্ধদের আলঝেইমার হওয়ার সম্ভবনাও অনেকটা কমায়। একটি গবেষণায় দেখা গেছে প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় কাঠবাদাম অথবা আমন্ড অয়েল রাখার ফলে স্বাস্থ্য ভালো থাকার পাশাপাশি নার্ভাস সিস্টেমের উপরেও অনেকটা ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।

গর্ভাবস্থায় কাঠবাদম খাওয়া ঃ
গর্ভাবস্থায় পানিতে ভেজানো কাঠবাদাম খেলে তা সন্তান এবং মা-দুজনের শরীরের জন্য অনেক ভালো । আলমন্ডে প্রচুরপরিমাণে ফলিক এসিড রয়েছে। এই উপাদানটি নবজাতকের জন্ম সমস্যা হ্রাসেও অনেক সহায়তা করে। শিশুর জন্য যেকোন ধরনের জন্মগত ত্রুটি বিচ্যুতি প্রতিরোধের জন্য এটি অনেকটাি অত্যাবশ্যকীয়। এটি টিস্যু গঠন ও কোষ বৃদ্ধিতেও সহায়তা অনেক করে থাকে। এর ফলে এই বাদাম মা এবং গর্ভস্থ সন্তানের স্বাস্থ্য রক্ষা করতে অনেক সাহায্য করে।

কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ ঃ
আামাদের শরীরে খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমানো এবং ভালো কোলেস্টেরলের মাত্রা বৃদ্ধি করার মাধ্যমে কাঠবাদাম হৃদপিন্ডকেও সুস্থ রাখতে অনেকটা সাহায্য করে থাকে। একটি রিসার্চচ দেখা গেছে যে যারা প্রতিদিন মাএ ১ টি করে কাঠবাদাম খেয়েছে তাদের কোলেস্টেরল মাএা ৪.৪% কমেছে এবং যারা প্রতিদিন ২ করে খেয়েছে তাদেরও অনেকটাই কমেছে ৯.৪% ।

ওজন নিয়ন্ত্রণেঃ
পানির মধ্যে ভেজানো কাঠবাদাম নিয়মিত খেলে শরীরের ওজন খুব তাড়াতাড়ি কমে যায় । কারণ এটির মধ্যে প্রচুর পরিমাণে মনো স্যাচুরেটেড ফ্যাটও থাকে। যার ফলে কয়েকটি কাঠবাদাম খেলেই পেট অনেকক্ষণ ভরপুর থাকে এতে করে অতিরিক্ত খাওয়ার ইচ্ছা থেকে অনেক্ষন বিরত থাকা যায়। আর যদি কম খানন তাহলে ওজন কমবেই, তা নিশ্চয় আপনাদের আর আলাদা করে বলে দিতে হবে না মনে হয় ! তাছাড়াও কাঠবাদাম খেলে পেটের মেদও অনেকটাই কমে যায়।

সর্বশেষ কথা হচ্ছে আমরা যদি প্রতিদিন নিয়ম করে কাঠ বাদাম খাই ,তাহলে আমরা অনেকভাবে উপকৃত হবো। আমাদের।প্রত্যেকেরই প্রতিদিন এক মুঠো পরিমাণ কাঠবাদাম খাওয়া খুবই দরকার।

About admin

Check Also

আপনি জানেন কি লেবুর খোসা আমাদের কি কি উপকার করে?

লেবু খেতে পছন্দ করেন না, এমন মানুষ খুব কমই আছে। আসছে গ্রীষ্ম। গরমে ক্লান্তি ও …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *